অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ভাঙার উদ্যোগ
অনিয়মের অভিযোগে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ভাঙার উদ্যোগ
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের আদর্শ এতিমখানা দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসার গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের পর বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার প্রফেসর এস এম তৌহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন বর্তমান গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়া হবে না। বোর্ডের চিঠি সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় অভিযোগকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে বোর্ডের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান সভাপতি ও অধ্যক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কমিটি গঠন নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক: মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের মধ্যে ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্তি, প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন দাতা সদস্যদের বাদ দেওয়া এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার বিষয় রয়েছে। এসব অভিযোগের জেরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ আজিজুর রহমান কমিটির কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট মাদ্রাসাটির গভর্নিং বডির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হলেও চেম্বার জজ আদালতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল থাকে। পরে আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডও গভর্নিং বডির অনুমোদনসংক্রান্ত স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত করে। ফলাফলেও হতাশাজনক চিত্র: এদিকে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় মাদ্রাসা থেকে ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন পাস এবং ২২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৪২ দশমিক ১১ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির
প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে গভর্নিং বডি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কারণ দর্শানোর জবাব ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com
কমেন্ট বক্স